যেখানে টাইগাররা কখনো হারেনা!

১৯৯৯ সালের বিশ্বকাপ কিংবা ৯৭ এর চ্যাম্পিয়নস ট্রফি এদেশের ক্রিকেটের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে বহুদিনের জন্য। সেখান থেকে শত বাধা বিপত্তিতেও পিছনে ফিরে তাকায়নি। অভ্যন্তরীণ কিংবা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ক্রিকেট হোচট খেয়েছে বারবার, তবে মুখ থুবড়ে পড়েনি। ঘুরে দাঁড়িয়ে ক্রিকেট বিশ্বে টাইগার তকমাটা নিজেদের করে নিয়েছে অনেক দিন হলো, হাটি হাটি পা পা করতে করতে একশো তম টেষ্ট খেলছে বাংলাদেশ। এর ভিতরে একদিনের ক্রিকেটে শক্তি হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্টা করেছে টাইগাররা। টেষ্টেও ইদানিং হুংকার দেয়া শুরু করেছে টাইগার বাহিনী।

একশোতম টেষ্টটি বাংলাদেশের জন্য অনেক বড় একটি উপলক্ষ্য। প্রসঙ্গত কলোম্বোর পি সারা ওভালে শততম টেষ্ট খেলছে বাংলাদেশ। টেষ্ট ক্রিকেটের চিরাচরিত উত্তেজনার ঝাপি খুলে বসেছে কলোম্বো টেষ্ট। উইকেট ও সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে সমানতালে রোমাঞ্চকর হয়ে উঠছে। প্রথম ইনিংসে পাওয়া লিড আর চতুর্থ দিনে লাঞ্চের পর মুস্তাফিজ – সাকিব নৈপুন্যে আবারো ড্রাইভিং সিটে বসেছিলো বাংলাদেশ। তবে শেষ বিকেলে লংকানদের লেজ সামলাতে হিমশিম খেতে হয়েছে টাইগারদের। যা কিনা অনেকটুকু প্রত্যাশার সমীকরনের মাঝে শংকা হয়ে বিধে আছে, চতুর্থ দিন শেষে। আমাদের মতোই টাইগাররাও আজ রাতে ঘুমোতে যাবে একরাশ শংকা আর স্বপ্ন বুকের ভিতরে লালন করতে করতেই। কলোম্বোর পঞ্চম দিনের উইকেটে দুনিয়ার কোন দলই ১৫০ এর বেশী রান তাড়া করতে চাইবেনা। মুশফিক বাহিনীও নয়।

তবে, জানেন তো ক্রিকেট কেবল শারিরীক কোন খেলা নয়। অনেকটাই মানসিক, অনেকটাই। বাংলাদেশের জন্য তো আরো অনেক বেশী। একটা সময় যখন আমরা অনেক দিন পর পর জিততাম, তখন ম্যাচের সকালেই বোঝা যেতো আজ বাঘ শিকার ধরবে। বডি ল্যাংগুয়েজ থাকতো অনেক বেশী চমকপ্রদ।
আর উপলক্ষ্যের ম্যাচগুলো বাংলাদেশ কখনো হারেনি, কখনো মানজারুল ইসলাম রানার মৃত্যুবার্ষিকীর আশেপাশে খেলা কোন ম্যাচ হারেনি। হারেনি কারন হারতে চায়নি।

১০০ তম ওয়ানডের কথা মনে আছে? ক্রিকেটের আদি নিবাস, ঢাকার প্রাণকেন্দ্র গুলিস্তানে জাতীর জনকের নামে স্টেডিয়ামে শততম আন্তর্জাতিক একদিনের ম্যাচ খেলতে নেমেছিলো টাইগাররা। মাশরাফি মিরাকল তো রচিত হয়েছিলো সেবারই, ইতিহাসের পাতায় তারিখটা লিখা আছে, ২৬/১২/২০০৪! শততম ওয়ানডে জয়ের সুখস্মৃতি নিয়েই এগিয়েছে টাইগার ক্রিকেট।
তারপর এলো ২০০৭, দেড়শতম ওয়ানডে খেলবে টাইগাররা। কুইন্স পার্ক ওভালে টাইগারদের মুখোমুখি আবারো সোনালি প্রজন্মের ভারত। মানজারুল রানার জন্য শোক বুকে নিয়ে নতুন দিনের বাংলাদেশ ছিটকে দিয়েছিলো ভারতকে। আমদের ক্রিকেট উত্থানের গল্পটা লিখা শুরুতো সেখান থেকেই।
২০০ তম ওয়ানডেতে ২০০৯ সালে ক্যারিবিয়রা পারেনি টাইগারদের থামিয়ে রাখতে। ল্যান্ডমার্ক ম্যাচে টাইগারদের বডি ল্যাংগুয়েজে থাকে লড়াকু মনোভাব।

তিনশোতম ওয়ানডে বাংলাদেশ কবে খেলেছে জানেন, বুকের ভিতরে দাগ ফেলে দেয়া মেলবোর্নের কোয়ার্টার ফাইনাল। কাগজে কলমে জয়ী দল ভারত, কিন্তু পুরো বিশ্ব জানে সেদিন জিতেছিলো টাইগাররাই। অনৈতিক,  বিচ্ছিরী ক্রিকেট বানিজ্যে সেদিন জোর করে না হারালে ল্যান্ডমার্ক ম্যাচে টাইগারদের জয়ের ধারা রুখে দেয়ার সাধ্যি কার?

এবার শততম টেষ্ট খেলতে নামা বাংলাদেশ দল ও হারতে চায়না। উপলক্ষ্যটাকে স্মরণীয় করে রাখতে উদগ্রীব টাইগার বাহিনী। নানা সমস্যায় জর্জরিত দলের বডি ল্যাংগুয়েজ দেখুন, এতো নতুন সুর্যোদয়। দেখুননা, বেশ বোঝা যাচ্ছে ড্রেসিং রুম ভালো নেই। একচ্ছত্র ক্ষমতা পেয়ে বেপরোয়া হয়ে উঠা কোচ বাংলাদেশ ক্রিকেটের নিউক্লিয়াসদের নিয়েই প্রশ্ন তোলার সাহস দেখিয়েছেন, দল নির্বাচনে নির্বুদ্ধিতা তো কবে থেকেই। এসবের প্রভাব খুব বুঝা যাচ্ছিলো।

তারপর দেখুন, শততম টেষ্ট উপলক্ষ্যে সব ছাপিয়ে কি দারুন লড়াইয়ের মন্ত্র পড়ে মাঠে নেমেছে মুশফিকের দল। চারদিন ধরে সমানতালে খেলেছে লংকানদের সাথে,  ঘরের মাঠে সাদা পোশাকে যেখানে অজিরাও হোয়াইট ওয়াশ হয়। সব কিছুর জবাব দেয়ার জন্যই খেলছে মুশফিকের দল। সাথে ল্যান্ডমার্ক ম্যাচে অনুপ্রেরণার গল্প তো  আছেই। সাদা পোশাকে বাঘের হুংকারের সূচনা হতে পারে এখান থেকেই। মানজারুল রানা আরেকবার কাঁদিয়েছেন তো সেদিনই।

কলোম্বোতে টাইগাররা কাল অন্তত হারার জন্য মাঠে নামবেনা, ড্রয়ের জন্য তো অবশ্যই নয়।

Leave a Reply