জয়ই যে সিরিজে একমাত্র সাফল্য!

পাহাড়ের কোল ঘেষা ডাম্বুলায় সাকিবের জন্মদিনে নিয়ে কি বাংলাদেশ দলের কোনো বিশেষ পরিকল্পনা ছিলো? সাকিবকে চমকে দেয়ার? থাকলেও তা বাস্তবায়নের সাধ্য ছিলো কই! পরের দিনই যে মাঠে নামতে হবে, জয়ের লক্ষ্যে।

সাদা বলে রঙিন পোশাকে এখন বাংলাদেশ বদলে যাওয়া এক দল। জয়ের লক্ষ্যে তারা যেকোনো দলের বিরুদ্ধেই মাঠে নামে। আর এই শ্রীলংকার সাথে তারা যে জয় ছাড়া যেকোনো ফলই যখন তাদের জন্য অঘটন, তখন পরাজয়ের চিন্তা আসাই তো পাপ।

এই শ্রীলঙ্কা বললে শ্রীলঙ্কান সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে প্রতিবাদ আসতে পারে। শুধু শ্রীলঙ্কা বললেও অবশ্য খুব বেশি পার্থক্য করা হবে না। নতুন বাংলাদেশের সূচনার আগেই যে তাদের বিপক্ষে চারখানা জয়, সেটা দেশের মাটি ছাড়িয়ে ছড়িয়ে পড়েছে রাবণের দেশেও। নতুন বাংলাদেশ যে আনকোরা শ্রীলঙ্কা দল নিয়ে ছেলেখেলা করবে, তা আর আশ্চর্য কি!

একবার তামিম ইকবাল বলেছিলেন, ‘আমাদের জন্য সবচেয়ে চাপের ম্যাচ হয় জিম্বাবুয়ের সাথে। কারণ লোকে তখন ধরেই নেয়, আমরাই জিতবো।’ কথাটা তামিম এখন জিম্বাবুয়ের বদলে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষেও বলতে পারেন। সাধারণ্যে সিরিজের আগেই শুরু হয়েছে, ওডিয়াইতে হোয়াইটওয়াশ হবেই লংকানরা। চাপের কাছে নতি স্বীকার না করলে, যা খুবই সম্ভব বলেই মনে হচ্ছে।

লংকান ব্যাটিং মহিরূহ সাঙ্গাকারা, জয়াবর্ধনে অবসর নিয়েছেন বেশ কিছুকাল হলো। তবে, বাংলাদেশ সবচেয়ে স্বস্তি পাচ্ছে বোধহয় এই ভেবে, এই দল তিলকারত্নে দিলশান বিহীন। আর কোনো দলের বিপক্ষে যাই হোক না কেন, বাংলাদেশকে পেলে তার ব্যাট হয়ে উঠতো গদা, একথা বলতেই হচ্ছে। ৫৪ গড়ে চার সেঞ্চুরি আর ২ ফিফটি তার স্বপক্ষে অকাট্যতা প্রমাণ করে। এছাড়া বাকি জয়গুলো যাদের কাঁধে চড়ে এসেছে, সেই মুরালি কিংবা জয়াসুরিয়া, সময়ের ভেলায় চড়ে সবাই আজ অতীত। সাথে যোগ করুণ ইঞ্জুরিতে এঞ্জেলো ম্যাথুস, লাসিথ মালিঙ্গা, কুশল পেরেরার অনুপস্থিতি। এই শ্রীলঙ্কা আসলেই শ্রীলঙ্কা তো!

শ্রীলঙ্কার তারকাখচিত ওই দল পেলেও মাশরাফি এখন বলতেন, ‘জয় ছাড়া অন্য কিছু ভাবছি না’। সেখানে, এই নড়বড়ে, আনকোরা দলের বিরুদ্ধে যে বাংলাদেশ তাদের পিষে ফেলার লক্ষ্য নিয়ে নামবে, তা আর আশ্চর্য কি! উপরন্তু, সাকিব, মুশফিক আছেন ফর্মের তুঙ্গে। ইঞ্জুরি কাটিয়ে মোস্তাফিজও এখন সেই ‘ভারত সিরিজের মোস্তাফিজ’। সৌম্য সরকার, সাব্বির রহমানের ব্যাটে ফিরেছে রান। মাহমুদুল্লাহকে নিয়ে যা-ও একটু শংকা ছিলো, দায়িত্ব নিয়েই তা ভুলিয়ে দিয়েছেন ক্যাপ্টেন মাশরাফি। শ্রীলঙ্কার মাটিতে তাই ১৪ হারের বিপরীতে ১ জয় কিংবা ২০১০ এশিয়া কাপে ডাম্বুলায় শ্রীলঙ্কার সাথে একমাত্র ম্যাচে ১৩৯ রানের বিশাল হারের পরও এই সিরিজে সকল অতীত পরিসংখ্যান ভুলে, বাংলাদেশই ফেভারিট।

ফেভারিটের তকমা গায়ে জড়িয়ে মাঠে নামতে যাওয়া টাইগারদের সুযোগ থাকছে র‍্যাংকিংয়েও এগিয়ে যাওয়ার। যদি সিরিজের ফল হয় ৩-০, সিংহদের টপকে বাঘের গর্জন শোনা যাবে র‍্যাংকিংয়ের ৬ নম্বরে। এ সুযোগ মাশরাফিরা হাতছাড়া করবেন কেন??

লেখার শুরুটা ছিল, সাকিবের জন্মদিনে দলের পক্ষ থেকে কোনো বিশেষ উপহার দেয়ার সুযোগ হয়তো ছিলো না। কে জানে, সিরিজ জিতেই বাংলাদেশ দল সাকিবকে তার বকেয়া মিটিয়ে দেয় কিনা! যদি লক্ষ্য থাকে এটাই, তবে শ্রীলঙ্কান দল এবার আগেভাগেই পরাজয়ের মানসিক প্রস্তুতি নিয়ে রাখতে পারে। কাউকে কিছু দেয়ার ম্যাচে যে বাংলাদেশ হারে না!

পুনশ্চ: লিখতে লিখতেই খবর পেলাম, তাসকিন বলেছেন, এই ম্যাচ সাকিব ভাইয়ার জন্য জিততে চাই।

Leave a Reply