বাংলার পঞ্চপান্ডব

ক্রিকেটে মানুষ পন্টিং, গিলক্রিস্ট, হেইডেন ম্যাগ্রা, ওয়ানের যুগে দেখেছে তারা কত ভয়ঙ্কর। তেমনি ভারতের শচিন, সৌরভ, শেওয়াগ, দ্রাবিড়, কুম্বলেকে দেখেছে। শ্রিলংকার আতাপাত্তু, চামিন্দা ভাস, সাঙ্গা, মাহেলার যুগ দেখেছে। আরও অনেক আছে এমন যারা সেই সময়ে নিজ নিজ দেশের কাণ্ডারি হয়ে দাঁড়িয়েছিল। আর আমাদের দেশে মাশরাফি, মুশফিক, তামিম, সাকিব, মাহমুদুল্লাহর যুগটা তেমন একটা যুগ।

এদের শুরুটা ২০০১ সালে। সেই সালে অভিষেক হয় মাশরাফির। কিন্তু ইন্জুরির কারনে টানা খেলে যেতে পারেননি। তিনি ছিলেন দলের অন্যতম সেরা পেসার। পারফর্মেন্সের জন্য কখনো দল থেকে বাদ পরেননি। কিন্তু ইন্জুরি তাকে খেলতে দেয়নি। কিন্তু ফিরে এসেছেন বারবার। শুরু করেছেন প্রথম থেকে। আর তাই তিনি এখন দলের বড় ভাই।

তার পরের ধাপ মুশফিকুর রহিম। শুরুটা ২০০৫ এ টেস্ট দিয়ে। বাংলাদেশ এর অন্যতম সেরা কিপার খালেদ মাসুদ পাইলট এর জয়াগায় অভিষেক হয় ১৬ বছরের এক যুবকের। শুরুটা তেমন ভালো না হলেও আস্তে আস্তে অভিজ্ঞ পরিনত হয়ে তিনি এখন দলের একজন সেরা ব্যাটসম্যান।

এরপর ২০০৬ । অভিষেক হয় বর্তমানে বাংলাদেশ এর সেরা খেলোয়ার সাকিব আল হাসানের। যিনি ৩ ফর্মেটেই ১নাম্বার অলরাউন্ডার । তিনি বিশ্বের সকল লীগেই খেলেছেন। অভিজ্ঞতার পূর্ণ প্যাকেজ তিনি। বাংলাদেশ এর পোস্টার বয় হিসেবে তিনি পরিচিত। দলের কান্ডারি। স্পিনারদের নেত্রিত্বে যেমন থাকেন তিনি তেমনি মিডল অর্ডারে ভরসার প্রতিক।

২০০৭ সালে অভিষেক হয় তামিম ইকবালের। যাকে বলা হয় বাংলাদেশ এর সর্বকালের সেরা ওপেনার। শুরু থেকেই যে মারকুটে ব্যাটসম্যান হিসেবে পরিচিত। বাংলাদেশের তিন ফর্মেটেই সর্বোচ্চ রানের অধিকারী তিনি। কিন্তু ধারাবাহিকতা না থাকার কারনে অনেক ট্রলের সম্মুখীন হতে হয়েছে তাকে । কিন্তু এখন ধারাবাহিকতার আর এক নাম তামিম।

২০০৭ সালেই অভিষেক হয় মাহমুদুল্লাহর। প্রথমে তিনি খেলেতেন লোয়ার অর্ডারে অলরাউন্ডার হিসেবে । কিন্তু ২০১৫ সালের বিশ্বকাপে তাকে উপরে এনে খেলানো হয় আর এতে সে সাফল্যও পায়। কোন বাংলাদেশি ব্যাটসম্যান হিসেবে বিশ্বকাপে প্রথম সেঞ্চুরি করেন তিনি। এরপর থেকে তিনি নিয়মিত উপরে খেলেন। দলে তিনি সাইল্যান্ট কিলার হিসেবে পরিচিত ।

এই পাচজন একে অপরের পরিপূরক। একজনকে ছাড়া অন্য জন অসম্পূর্ণ থেকে যায়। এদের কেউ বড় ভাই কেউ সম বয়সি কিন্তু এরা সবাই বন্ধু। আর এটাই ওদের শক্তি।
মহাভারতে যেমন পঞ্চপান্ডব তাদের ওপর করা সকল অন্যায় অবিচারের জবাব যুদ্ধের ময়দানে দিয়েছিলো। তেমনি আমাদের এই পাঁচজন সাথে আরও কিছু তরুণ নিবেদিত প্রাণ সেনা নিয়ে তাদের প্রতি অতীতে করা সকল অন্যায়ের জবাব মাঠে দিয়ে যাবে। ভেঙে দিবে প্রতিপক্ষের অহংকার ।
পরিশেষে এই কামনাই করি। ভালো থেকো পঞ্চপান্ডব।

Leave a Reply