শততম টেস্টে রোমাঞ্চকর জয় বাংলাদেশের।

হেরাথের বলটা সুইপ করে একটু দাড়িয়ে ছিলো মিরাজ বলটা ফিল্ডারের কাছে গেলো কিন্তু মিসফিল্ডিং! সাথে সাথে দৌড় শুরু করল দুইজনই, মুশফিক ও মিরাজ। এক রান নিয়েই যেনো চিৎকার শুরু করলো ২ জন। ২ রান নিয়ে উৎসবে মেতে উঠলো তারা। কারণ নিজেদের শততম টেস্ট জিততে যে মাত্র দুই রান দরকার ছিলো।

চতুর্থ দেশ হিসেবে নিজেদের শততম টেস্ট ম্যাচে জিতলো বাংলাদেশ । তাও টেস্ট র‍্যাংকিং এ চতুর্থ সেরা দলটিকে হারিয়ে তাও আবার তাদের দেশের মাটিতেই। তারপর আবার শ্রীলংকাকে প্রথমবারের মত হারানোর স্বাদ সব মিলে যেনো এই টেস্টটা বাংলাদেশের জন্য উৎসবের সামিল। নিজেকে চেনানোর, নিজেদের উপস্থিতি প্রমাণ করার এক সুবর্ণ সুযোগ। আর সেটাই কাজে লাগালো টাইগাররা ।

যদিও দিনের শুরুটা ছিলো ভয়ঙ্কর। লংকানদের শেষের দিকের দুই ব্যাটসম্যানকে আউট করতে রীতিমতো হিমসিম খেতে হয় বাংলাদেশের বোলারদের। মিরাজের বলে পেরেরা রান আউট হওয়ার পরের ওভারেই সাকিবকে উড়িয়ে মারতে যেয়ে ক্যাচ আউট হয় লাকমাল। এতে সমাপ্তি ঘটে শ্রীলংকার ইনিংসের। কিন্তু ততক্ষণে লীড হয়ে গেছে ১৯০ রানের। পঞ্চম দিনের সাপেক্ষে যা পাহাড়সম রান।

কিন্তু পিচের হিসেবে মনে হলো যেনো এটা নেয়া তেমন কোনো কঠিন হবে না। শুরুটাও ভালোই ছিলো কিন্তু বাংলাদেশ নামতেই যেনো পিচে বল টার্ন ধরতে শুরু করে। তবুও শুরুটা ভালো করেছিলো দুইজন। হেরাথকে ছয় মারতে যেয়ে ক্যাচ দিয়ে আউট হোন সৌম্য। তারপর দাঁড়াতেই পারেনি কায়েস। কিন্তু তামিম সাব্বিরের দৃঢ়তায় মনে হলো যেনো জয় হাতের নাগালে। কিন্তু আবারও ভুল শট, এবার তামিম। পেরেরাকে ছয় মারতে যেয়ে আউট হন তিনি। যদিও চান্দিমাল দূর্দান্ত একটি ক্যাচ ধরেন। তারপর সাব্বির ও সাকিবের আউটের পর মনে হতে থাকলো ম্যাচ বুঝি ফসকে গেলো বাংলাদেশের হাত থেকে। যদিও সাকিবের আউটটা ছিলো একটু অন্য রকম। বল স্ট্যাম্প ক্রস করার পর আলতো করে বলটা পরে যায়। আর এতে সাকিব নিজেকে আনলাকি মনে করতেই পারেন। ম্যাচ তখনো যে কেউই জিততে পাররত এমন মুহুর্তে ছিলো!

কিন্তু কাপ্তান মুশফিক ও মোসাদ্দেক হোসেনের দৃঢ়তায় ম্যাচ বাংলাদেশের জয়ের একদম দ্বারপ্রান্তে চলে আসে। তখন হেরাথের বল উড়িয়ে মারতে যেয়ে আউট হয়ে যায় মোসাদ্দেক। দলের সবচেয়ে তরুন প্লেয়ার মিরাজের হাত ধরেই আসে বাংলাদেশেরর শততম টেস্ট জয়।

এই জয় হয়ত আমাদের বড় দল বানিয়ে দিবে না তবে ইংল্যান্ড সিরিজের পর এবার আবার দেখলাম কিভাবে ফিরে আসা যায়। দেখলাম যে, চাইলে যে কোনো কন্ডিশনে যে কোনো দলকেই হারাতে পারে এই বাংলাদেশ দল। বিশ্ববাসী দেখলো বাংলাদেশ এখন আর সহজে হেরে যাওয়াদের মধ্যে নেই তারা লড়াই করতে জানে।

দলের সবাই স্বাভাবিক খেলাটা খেলতে পারলে এই বাংলাদেশ দলকে হারানো সহজ নয়। তাই টেস্টের মত আশা করা যায় ওয়ানডে সিরিজটাও হবে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ন। এই জয়ের ধারা বজায় থাকুক বাংলাদেশ দলের।

Leave a Reply