খেলাটা কলম-কাগজের না, ব্যাট-বলের

 

ছোটবেলায় ব্যাকরণ পরীক্ষার সময় হয়তো একটি রচনা আপনি লিখেও থাকতে পারেন “আমি যদি লটারি জিততাম”। অনেক প্ল্যান ছিলো,কত সমাজসেবামূলক কাজ যে করতেন। দিস্তার পর দিস্তা শুধু সেটা নিয়েই ব্যয় করতেন। লিখতে লিখতে হয়তো এক আধ খানা কলমের কালিও ফুরাতো। মনের কোণে হয়তোবা ফুটে উঠতো, জিতে গেছেন লটারি। পরক্ষণেই বাস্তবতার জমিনে নেমে এসে দেখতেন, সব আপনার মস্তিষ্ক, কলম আর কাগজের লীলাখেলা।

প্রতিদিনই তো কাগজের পাতায় অনেক কিছু লিখেন। পরবর্তী সময়ে সেইসব দেখে নিজের অজান্তেই হেসে উঠেন।

এত কাগজ, কলমের কথা কেন বলছি??? বলছি তাদের জন্য, যারা বি.পি.এল এর প্লেয়ারস ড্রাফট শেষ হতে না হতেই বহু কাগজ নষ্ট করেছেন এটা প্রমাণের জন্য, বরিশাল কাগজে-কলমে এবার বি.পি.এলের সবচেয়ে দুর্বল দল।

সম্ভবত বি.পি.এলের এই একটা মাত্র দলেই তাঁরার হাট বসেনি। নেই টি২০ এর তথাকথিত সুপারস্টার। উহু, ভুল বলে ফেললাম।কার্লোস রিকি ব্রাফেট তো শুধু ওয়েস্টইন্ডিজ না, ক্রিকেট রুপকথারই এক অংশ এখন। আবারো ফাইনালে ৪ ছক্কা মারতে চাইলে তাকেই যে দায়িত্ব নিতে হবে বরিশালের।

আবারো ভুল বললাম।এই দল যে দশে মিলে করি কাজ নীতিতে বিশ্বাসী। প্লেয়ারদের দেখলেই যা প্রতীয়মান।

বাংলাদেশের ১ম টি২০ স্পেশালিষ্ট হিসেবে আবির্ভূত নাদিফ চৌধুরীও মাঠ মাতাবেন বরিশালের হয়েই। কার্লোস ব্রাফেটের সাথে নাদিফ চৌধুরী, কে বলে বরিশালে পাওয়ার হিটার নাই।

পাওয়ার হিটিংকে আপনি জুয়া বললে আমি তর্ক করবো না। ভাগ্য সাথে না থাকলে, পাওয়ারে কখন যে কি হয়, বলা মুশকিল। কিন্ত টেকনিক্যালি যদি নিখুঁত থাকেন, রান আসবেই। আর এক্ষেত্রে মুশফিকের চেয়ে ভালো কে হতে পারে। বরিশালের হয়ে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ক্যাপ্টেন্সির ক্যালমাও হয়তোবা দেখিয়ে দিবেন তিনি।

মিডল অর্ডার নিয়ে এত বললাম, ওপেনিং নিয়েও কি কিছু বলার নাই??? শামসুর রহমান শুভ আর দিলশান মুনাবীরা হয়তো মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যানদের ব্যাটিংয়েই নামতে দিবেন না। কিংবা কে জানে, শাহরিয়ার নাফিস হয়তো নির্বাচকদের সাথে শেষ বোঝাপড়া করার জন্যই নামবেন মাঠে।

ও মনু, ব্যাটিং নিয়ে টেনশন যা ছিলো, গেছে তো। তাহলে তো ম্যাচ নিয়েই টেনশনের কিছু দেখি না। কারণ বরিশালের বোলিং লাইনআপ নিয়ে প্রশ্ন তোলার তো সু্যোগই দেখি না।

বি.পি.এল দিয়ে নজরকাড়া আবু হায়দার রনি এবার বরিশালের লঞ্চে। সাথে গত বি.পি.এলে হ্যাটট্রিকের সুখস্মৃতি নিয়ে আল আমিন হোসেন। আরো গতি চাইলে কামরুল ইসলাম রাব্বিও আছেন। লঞ্চ না আবার প্লেন হয়ে যায়!

স্পিড কমিয়ে তাকান মায়াবী স্পিনে। তাইজুলকে পাবেন সেখানে। বোলিং ভ্যারিয়েশন দেখতে চোখ রাখুন বাঁহাতি রুম্মান রইস খানের উপর।

বরিশালের প্রত্যেক প্লেয়ারই কিছু না কিছু নিয়ে জবাব দেওয়ার অপেক্ষায়।আর আহত বাঘ যে সাধারণের চেয়ে আরো বেশি ভয়ানক, তা আর বলতে। সব সমমানের প্লেয়ার একত্রে জ্বলে উঠে কাপ জেতার নিয়ে উল্লাসে মত্ত, ভাবতেই তো গায়ে কাঁটা দেয়। ‘একতাই বল’ কথাটা ব্যাখ্যা করতে আপনি হয়তো পরবর্তীতে বরিশাল বুলসেরই সাহায্য নিবেন।

বি.পি.এলকেই হয়তো একেকজন তেতে থাকা প্লেয়ার নিবেন দৃষ্টি কাড়তে, জবাব দিতে। আর সেই স্রোতে কাগজেকলমে আন্ডারডগ খেতাব নদীর জলে মিশে বঙ্গোপসাগরেই চলে যায় নাকি, তাই দেখার অপেক্ষায় বরিশালের মনু সম্প্রদায়।

বরিশাল বুলসের কিছু দারুণ পারফরমেন্স দেখতে দূরদর্শনে চোখ রাখতে পারেন আপনিও।

Leave a Reply