বোলার শচীন টেন্ডুলকার

Sachin Ramesh Tendulkar

ব্যাটসম্যান শচীন টেন্ডুলকারকে কে না চেনে বা জানে কিন্তু বোলার শচীনকে কয়জন জানি বা চিনি? কিংবা আমরা কয়জন লক্ষ্য করেছি বোলার শচীনকে নাকি ব্যাটসম্যান শচীন আড়াল করে দিয়েছে বোলার শচীনকে তাই হয়ত লক্ষ্য করতাম না আমরা। আমরা অনেকেই হয়ত জানি না শচীন টেন্ডুলকার তার জীবনের স্বপ্ন পূরণ করার লক্ষ্যে ১৯৮৭ সালে চেন্নাই এর এমআরএফ পেস ফাউন্ডেশনে পেস বোলিং এর ট্রেনিং ও গিয়েছিলেন। তার এই স্বপ্ন ভেঙ্গে দেয়ার জন্য ধন্যবাদ দেয়া উচিত ডেনিস লিলিকে, সেদিন উনি যদি শচীনকে বোলিং মনোযোগ না দিয়ে ব্যাটিং এর প্রতি মনোযোগ না দিতে বলতেন তাহলে হয়ত আমরা আজকে এই শচীনকে পেতাম না। ক্রিকেট জীবনে শুরুতে মিডিয়াম বল করলে পরবর্তী অফ ব্রেক ও লেগ ব্রেক করতেন। তাহলে আসুন জেনে নেই শচীনের কিছু চমৎকার বোলিং এর বিস্তারিতঃ

১। ৩৪/৪, প্রতিপক্ষ ওয়েষ্ট ইন্ডিজ, শারজাহ, ১৯৯১

১৯৯১ সালের ২২ অক্টোবর শারজাহ অনুষ্ঠিত ত্রিজাতীয় উইলস কাপের ৫ম ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করতে নামে ওয়েষ্ট ইন্ডিজ। আজহার উদ্দিন যখন শচীনের হাতে বল তুলে দেন সেসময় ওয়েষ্ট ইন্ডিজের স্কোর ছিলো ৩৯/১।

প্রথমে ক্লেটন লাম্বার্ট কে এলবিডব্লিউ করে সাজঘরে পাঠিয়ে দেন, এরপর একে একে লগি, রিচার্ডসন এবং ডুজনকে সাজঘরে পাঠিয়ে দেন। সেসময় ওয়েষ্ট ইন্ডিজের রান ছিলো ৭৮/৬। এরপর আর্থারটনের ৫৯ রানের ইনিংসের উপর ভর করে ওয়েষ্ট ইন্ডিজ তাদের ইংনিশ শেষ করেন ১৪৫ রানে। এরপর মাঞ্জেকার আর সিধুর চমৎকার ব্যাটিং এ ভারত ৩৭.৩ ওভারেই জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় রান তুলে ফেলে ৩ উইকেট হারিয়ে। আগে ব্যাট করে ওয়েষ্ট ইন্ডিজের সাথে জয় ছিলো ভারতের প্রথমবারের মতো।

২। ৩২/৫, প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়া, কোচি, ২০০৫

অজয় জাজেদার সেঞ্চুরী, আজহার উদ্দিনের ৮২ এবং হেমন্ত কান্তিকারে ৫৭ রানের উপর ভর করে ভারত ৩০৯ রানের বিশাল স্কোর করেন। ব্যাটিং এ নেমে অস্টেলিয়া তাদের চমৎকার জবাব দিতে তাদের ওপেনিং জুটিতে রান করে ১০২ রান করে মার্ক ওয়াহ উইকেট হারিয়ে। অষ্ট্রেলিয়ার তখন দরকার ১০৬ বলে ১০৭ রান হাতে ৬ উইকেট যখন শচীনের হাতে বল তুলে দেন আজহার উদ্দিন। অধিনায়ককে নিরাশ করেননি শচীন ওভারের ৩ বলে ই স্টিভ ওয়াহকে কট বিহাইন্ড করে দেন নিজেই ক্যাচ লুফে নিয়ে। তারপর লেহম্যান, বেভান, টম মুডি, ডেমিয়েন মার্টিন কে আউট করে নিজের ৫ উইকেট তুলে নেন মাত্র ৩২ রানে ১০ ওভার শেষে। সেই ম্যাচে ভারত ৪১ রানে জিতেছিলো।

৩। জাদুকরী ১ ওভার, প্রতিপক্ষ দক্ষিণ আফ্রিকা, কলকাতা, হিরো সুপার কাপ, ১৯৯৩

১৯৫ রানে যখন ভারতের ইনিংস শেষ হয়ে যায় তখন সবাই আশা ছেড়ে দিয়েছিলো ভারত জয়ী হবার। দঃ আফ্রিকা স্বাচ্ছন্দ্যেই ব্যাটিং করছিলো এবং একসময় তাদের রান ১০৬/৩। ধারাবাহিকভাবে উইকেট পরছিলো ঠিকই কিন্তু যত সময় যাচ্ছিল দঃ আফ্রিকা জয়ের দ্বারপ্রান্তে পৌছে যাচ্ছিলো। কিন্তু প্রথমে বাদ সাধলো জাদেজা ও অনিল কুম্বলে, দ্রুততার সাথে জন্টি রোডস, প্যাট সিমকক্স, এন্ড্রু হাডসন এবং স্নেল এর উইকেট ফেলে দিলে দঃ আফ্রিকার সংগ্রহ গিয়ে দাড়ায় ১৪৫/৭। কিন্তু খেলায় আরো অনেক নাটকীয় ঘটনা বাকী ছিলো। ডেভ রিচার্ডসন ১৫ বলে ১৫ রান করে আউট হবার আগে দলকে জয়ের দ্বারপ্রান্তে রেখে যান। শেষ ওভারে দঃ আফ্রিকার দরকার ৬ রান ৬ বলে, মাঠে আজহারউদ্দীন, কপিল দেব এবং টেন্ডুলকার নিজেদের মধ্যে পরামর্শ করে নিচ্ছেন। শেষ ওভার করার জন্য কার হাতে বল দিবেন? কপিল, প্রভাকার এবং শ্রীনাথ, প্রত্যেকের ২ ওভার করে হাতে আছে, সলিল আঙ্কোলার হাতে রয়েছে ৪ ওভার। কিন্তু ইডেনে যে সেদিন নাটকীয়তা তখনও বাকী ছিলো। সবাইকে অবাক করে দিয়ে বল করতে আসলেন শচীন। স্ট্রাইকে ছিলেন ম্যাকমিলান, তখন উনি ৪৭ রানে করে দলকে জয়ের দিকে এগিয়ে নিয়ে এসেছেন। প্রথম বল করলেন শচীন, সর্ট পিচ বল ছিলো। ম্যাকমিলান সেটা ডিপ পয়েন্ট পাঠিয়ে দিয়ে ২ রানের চেষ্টা করলেতে গেলে ফ্যানি ডি ভিলিয়ার্স রান আউট হয়ে ফিরে যান। ৫ বলে ৫ রান। ব্যাট করতে আসেন অ্যালান ডোনাল্ড। সচিন অফ স্ট্যাম্পের বাইরে বল করলে ডোনাল্ড হিভ করলে বলের ফ্লাইট মিস করেন। ৪ বলে ৫ রান। পরের বলটা ছিলো লেগ ব্রেক এবং টার্ন নিয়েছিলো, ডোনাল্ড মেরেছিল কিন্তু বল শচীনের কাছে ফিরে আসে। ৩ বলে ৫ রান। এবার অফ স্ট্যাম্পের অনেক বাইরে বল দিলো শচীন, এবার ডোনাল্ড ওয়াইড বল ভেবে বল ছেড়ে দিলো এবং আম্পায়ার স্টিভ বাকনারের দিকে ওয়াইডের জন্য তাকালো কিন্তু বাকনার নিরাশ করলো। ২ বলে ৫ রান। পরের বল আর মিস করেনি ডোনাল্ড। অন ড্রাইভ করে লং অনে পাঠিয়ে দিলে, কুম্বলে ফেরত পাঠানোর আগে ব্যাটসম্যানরা ১ রান নিয়ে জায়গা বদল করলো। ১ বলে ৪ রান। আজহার বাউন্ডারী আটকানোর চেষ্টায় ফিল্ডিং সাজালো। সচিন মিডেল স্ট্যাম্প বরাবর কিছুটা ইয়র্কার ছিলো বলটা ম্যাকমিলন চেষ্টা করলো কিন্তু ব্যাটে লাগাতে পারেনি। বাই ১ রান নিলো এবং ম্যাচ হাতছাড়া করতে হলো।

৪। ৫/১, প্রতিপক্ষ ওয়েস্ট ইন্ডিজ, পার্থ,  বিশ্বকাপ, ১৯৯২

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিধ্বংসী বোলিঙের সামনে ভারতের ইনিংস ১২৬ রানে গুটিয়ে যায়। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ব্যাট করতে নামলের নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পড়তে থাকলে ১১৩ রানে তাদের ৯ উইকেট পড়ে গেলে শেষ উইকেট জুটির দৃঢ়তায় শেষ ওভারে যখন জয়ের জন্য ৬ রানের দরকার তখন ভারতের অধিনায়ক আজহারউদ্দীন সচিনের হাতে বল তুলে দেন।

কামিন্স ফাইন লেগে বল পাঠিয়ে ১ রান নিলে স্ট্রাইকে আছে পেটারসন। পেটারসন কভার ডাইভ করতে গেলে বল এজড হলে তা মিডউইকেট থেকে ফিরে আসার আগ পর্যন্ত ব্যাটসম্যানরা ৩টি রান তুলে স্কোর লেভেল করেন। সচিন তার শেষ বলটি লাইন বরাবর ফেললে কামিন্স ড্রাইভ করার চেষ্টা করলে তা আউটসাইড এজড হলে স্লিপে আজহারউদ্দীনের হাতে গিয়ে পরলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ অল আউট হয়ে যায়। ম্যাচ টাই এবং ম্যাচ হিরো শচীন টেন্ডুলকার।

৫। ৪৩/৩, প্রতিপক্ষ শ্রীলংকা, রাজকোট, ১৯৯৪

অর্জুনা রানাতুঙ্গা টসে জিতে প্রথমে ভারতকে ব্যাটিঙের আমন্ত্রণ জানান। মনোজ প্রভাকর এবং নবোজত সিং সিধু প্রথম উইকেট জুটিতে ১২২ রান যোগ করেন। প্রভাকর ৬৭ রান করে আউট হয়ে গেলোও সিধু সেঞ্চুরী করে আউট হন। তাদের রানের উপর ভর করে ভারত ৫ উইকেটে ২৪৬ রান করে ইনিংস শেষ করেন।

রওশন মহানামা এবং দিলীপ সামারাভীরার ৪৬ রানের ওপেনিং ভাঙতে আজহার বল তুলে দিলেন সচিনের হাতে, সচিন অধিনায়কের ভরসার আস্থা রাখলেন। সামারাভীরার ব্যাক্তিগত ১৪ রানে  স্ট্যাম্পের শিকার করে প্যাভেলিয়নে পাঠিয়ে দিলেন। তারপর সে রওশন মহানামাকে ব্যাক্তিগত ৩৫ রানের মাথায় নিজের বলে নিজেই ক্যাচ ধরে আউট করেন। এরপর রাঙ্গাতুঙ্গাকে আউট কে আট ওভার খেলে গুরুতপুর্ন ৩টি উইকেট তুলে নেন এবং ভারত ৮ রানে জয় তুলে নেয়।

৬। ৩৬/৩, প্রতিপক্ষ ওয়েস্ট ইন্ডিজ, চেন্নাই, ১৯৯৪

অধিনায়ক আজহার উদ্দিন টসে জিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ব্যাটিং করার জন্য আমন্ত্রণ জানান। ৬৪ রানে উইকেট চলে যাবার পর ব্রায়ান লারা এবং কার্ল হুপার তা ১১২ রান পর্যন্ত নিয়ে গেলে আজহার তার পার্ট টাইম বোলার শচীন টেন্ডুলকারের হাতে বল তুলে দেন।

টেন্ডুলকার প্রথম শিকার লারাকে এলবি’র ফাদে ফেলে আউট করে সাজ ঘরে পাঠিয়ে দিলে ৫ নম্বরে ব্যাট করতে আসেন জিমি এডামস। জিমি এডামসকে নিজের বলে নিজেই ক্যাচ ধরে আউট করেন। এরপর শেরউইন ক্যাম্পবেল অল্প সময় ক্রিজে থাকতে পারেন এবং শচীন ১০ ওভার বল করে ৩৬ রানে ৩ উইকেট তুলে নেন। এই ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজ এর ইনিংস ২২১ রানে গুটিয়ে যায় এবং আজহারউদ্দীনের ব্যাটিং দৃঢ়টা ইন্ডিয়া ৪ উইকেটে জয় পায়।

৭। ৩৮/৪, প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়া, ঢাকা, উইলস ইন্টারন্যাশনাল কাপ ১৯৯৮

উইলস কাপের কোয়ার্টার ফাইনালে স্টিভ ওয়াহ টসে জিতে বোলিং বেছে নিলেন। গাঙ্গুলী এবং আজাহারের উইকেট দ্রুত পরে গেলেও শচীন-দ্রাবিড় এবং শচীন-জাদেজা জুটির দৃড়তায় রান দলীয় রান হয় ৩০৭/৮

মার্ক-ওয়াহ এবং গিলক্রিষ্ট দ্রুত ৫১ এবং মার্ক- রিকি ৯৪ রান দলীয় স্বকর্ম সুবিধাজনক অবস্থানে নিয়ে যায়। অস্ট্রলিয়ার যখন ১৭২/৪ তখন ব্যাটিং এ রয়েছে স্টিভ ও লেহম্যান। এরপর অস্ট্রেলিয়ার হাতে ছিলো মিঃ ফিনিশার খ্যাত মাইকেল বেভান ও ড্যামিয়েন মার্টিন। জয়ের সম্ভবনা নিয়ে যখন এগুছিলো অস্ট্রেলিয়া তখনই আজহারউদ্দীন আবার বোলিং এ আনলান শচীনকে। দুর্দান্ত এক জাদুকরী স্পেলে একে একে মার্ক, বেভান, মার্টিন এবং ব্রাড ইয়াং এর উইকেট নেয়। ১৭২ এর সাথে মাত্র ৪৪ রান যোগ করতে পেরেছিলো অস্ট্রেলিয়া।

৮। ৫০/৫, প্রতিপক্ষ পাকিস্তান, কচি, ২০০৫

অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলী টসে জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন। ৪ রানে মাথায় গাঙ্গুলী ও শচীনের উইকেট পরে গেলে শুরুতেই ভারত বিপদে পড়ে গেলে পরবর্তীতে শেহবাগ ও দ্রাবিড়ের সেঞ্চুরীতে ভারত পাকিস্তানকে ২৮২ রানের ফাইটিং টার্গেট দিতে সক্ষম হয়।

যদি পাকিস্তান মনে করে যে এই খেলায় শচীনের ব্যাটিংই শচীনের শেষ খেলা তাহলে সেদিন যে পাকিস্তান ভুল করেছিলো সেটা পরে শচীনের বোলিং দেখে নিশ্চয়ই ভুল ভেঙ্গেছিলো। লক্ষ্মীপাথি বালাজি, আশীষ নেহরা, এবং জহীর খানে বিধ্বস্ত বোলিং এর পর যখন পাকিস্তানের স্কোর ৬৪/৪, তখন গাঙ্গুলী পার্ট টাইম বোলার শচীনকে পাঠালো খেলায় মজা করার জন্য। বোলিং করতে এসেই টেন্ডুলকার পার্টি শুরু করে দিলো। ইনজামামকে ব্যাক্তিগত ৩৭ রানে বোল্ড, আব্দুল রাজ্জাককে ৫ রানে শেহবাগের হাতে ক্যাচ দিয়ে, শহীদ আফ্রিদিকে ৮ রানের মাথায় জহীর খানের হাতে ক্যাচ দিয়ে, ব্যাক্তিগত ২ রানে মোহাম্মদ সামিকে নিজেরই বলে নিজেই ধরে এবং দলীয় সর্বোচ্চ ৪২ রান নেয়া মোহাম্মদ হাফিজকে নেহরার হাতে ক্যাচ দিয়ে ওয়ানডেতে এবং এই মাঠেই দ্বিতীয়বারের মতো ৫ উইকেট তুলে নিলেন শচীন টেন্ডুলকার এবং ভারত তুলে নিলো ৮৭ রানের জয়।      

৯। ১০/৩, প্রতিপক্ষ সাউথ আফ্রিকা, আহমেদাবাদ, ২০০০ (টেস্ট)

অধিনায়ক হিসেবে এই টেস্ট এ নেমেছিলেন শচীন টেন্ডুলকার। টসে জিতে ব্যাটিং এর সিদ্ধান্ত নেন। তার ৯৭ রানের উপর ভর করে দলীয় ২২৫ রানে ভারত প্রথম ইনিংস শেষ করে। সাউথ আফ্রিকা তাদের ইংনিসে ৯০ রান করে কোন উইকেট না হারিয়ে। অজিত আগারকার, জাভাগাল শ্রীনাথ, মুরালি কার্তিক এবং অনিল কুম্বলে এই ৪ বোলারকে ব্যবহার করে যখন টেন্ডুলকার কোন ব্রেক থ্রো পাচ্ছিলেন না তখন নিজে বোলিং এ নামেন। দুই ওপেনার হার্সেল গিবস (৪৭) এবং গয়ারই কারস্টেনকে (৫০) দ্রুত সাজঘরে পাঠিয়ে দেন। এরপর আবারো বোলিং ফিরে শোন পোলককে আউট করেন। এই ইনিংসে সাউথ আফ্রিকা তাদের ১০ উইকেট হারান মাত্র ৮৬ রানে।

১০। ৩১/৩, প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়া, কলকাতা, ২০০১ (টেস্ট)

ভারতের জন্য এই টেস্টে জয় পাওয়াটা ছিলো অকল্পনীয়, ২০০১ সালে ইডেন গার্ডেনে খেলায় ফিরে এই ম্যাচে ভারত ১৭১ রানের বড় ব্যবধানে অস্ট্রেলিয়াকে হারায়।  ভারতীয় ক্রিকেটের নতুন যুগের সূচনা, ভিভিএস লক্ষ্মণ ও রাহুল দ্রাবিড়ের জুটি ৩৭৬ রানের কীর্তিটি এই ম্যাচের হয়েছিলো। যাইহোক এই ম্যাচে আরো একটা স্বরনীয় ঘটনা ঘটে যা ছিলো চতুর্থ ইনিংসে টেন্ডুলকারের ৩ উইকেট পাওয়া। ম্যাথু হেইডেন অস্ট্রেলিয়ার হয়ে সর্বোচ্চ ৬৭ রান করেছিলো সেই ইনিংসে তা উইকেট, নিজের প্রথম বলে টেন্ডুলকার ডেঞ্জারম্যান গিলক্রিষ্টকে এলবিডব্লিউ করেন এবং শেন ওয়ার্নকে শূন্য হাতে সাজ ঘরে ফিরান। শচীনের এই বোলিং অস্ট্রেলিয়াকে অলআউট করতে বিশেষ সাহায্যে করে।

শখের বসা বোলিং করতেন শচীন কিন্তু তার বোলিং দেখে কখনই মনে হতো না উনি পার্ট টাইম বোলার। তার প্রতিটি বলেই থাকতো তার বোলিং মেধার পরিচয়। নিয়মিত বোলিং করলে হয়ত আমরা অন্য আরেক শচীনকে দেখতে পেতাম। যাইহোক যা হয়নি সেটা নিয়ে না হয় আর নাই বললাম।

আজ ২৪ এপ্রিল। ১৯৭৩ সালের এই দিনে জন্মছিলেই বলেই আমরা পেয়েছিলাম এই ক্রিকেট জিনিয়াস শচীন টেন্ডুলকারকে, শুভ জন্মদিন শচীন টেন্ডুলকার, শুভ জন্মদিন লিটল মাস্টার।

Leave a Reply